সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের পক্ষে যুক্তিগুলি আলোচনা করো

সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের পক্ষে যুক্তিগুলি আলোচনা করো

সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের পক্ষে যুক্তিগুলি আলোচনা করো
সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের পক্ষে যুক্তিগুলি আলোচনা করো

সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের পক্ষে যুক্তি

জন স্টুয়ার্ট মিল, লেকি, লর্ড অ্যাকটন প্রমুখ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের সপক্ষে তাঁদের অভিমত ব্যক্ত করেছেন। আবার ডাইসি, ল্যাস্কি, ফাইনার প্রমুখ সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থার ত্রুটিবিচ্যুতি সম্পর্কে তাঁদের অভিমত প্রকাশ করেছেন।

পক্ষে যুক্তি

সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের সপক্ষে যেসব যুক্তি দেখানো হয় সেগুলি হল-

[1] গণতন্ত্রসম্মত

সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থাকে গণতন্ত্রসম্মত বলে অভিহিত করা হয়। এই ব্যবস্থায় সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘিষ্ঠ উভয়প্রকার রাজনৈতিক দল তাদের শক্তির আনুপাতিক হারে আইনসভায় আসন লাভ করতে পারে। সমানুপাতিক হারে প্রতিটি দলের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ গণতন্ত্রের বুনিয়াদকে সুদৃঢ় করে।

[2] রাজনৈতিক চেতনা বৃদ্ধির সহায়ক

এই ব্যবস্থায় প্রতিটি ভোটদাতাকে প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য তাঁর পছন্দ প্রকাশ করতে হয়। এর ফলে রাজনৈতিক চেতনার প্রসার ঘটে। প্রতিনিধিত্বের এই ব্যবস্থায় ভোটদাতা সম্যকভাবে এটা উপলব্ধি করতে পারেন যে, তাঁর দেওয়া একটি ভোটের মূল্য অপরিসীম। এই উপলব্ধি নাগরিকদের দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি করে।

[3] আইনসভার উৎকর্ষ বৃদ্ধির সহায়ক

সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের নীতিতে আইনসভার গুণগত উৎকর্ষ সাধিত হয় বলে অনেকে মনে করেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মিলের মতে, সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থায় ছোটো দল বা গোষ্ঠীগুলি যোগ্য প্রার্থী দাঁড় করানোর ফলে প্রকৃতপক্ষে সুযোগ্য ব্যক্তিরা নির্বাচনি দ্বন্দ্বে অবতীর্ণ হতে চান না। অন্যদিকে, সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থায় ছোটো দল বা গোষ্ঠীগুলি যোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়। যথেষ্ট আর্থিক সংগতি না থাকলেও, সমানুপাতিক হারে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগে গুণী ও বিচক্ষণ ব্যক্তিরা আইনসভায় নির্বাচিত হন।

[4] সাম্যের নীতির অনুসারী

সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের নীতি সাম্যের আদর্শকে বাস্তবে রূপায়িত করে বলে মনে করা হয়। প্রতিটি নাগরিক এই ব্যবস্থায় তার খুশি মতো প্রার্থী নির্বাচনের সুযোগ পাওয়ায় ব্যাপকভাবে সমতার নীতি রূপায়িত হয়।

[5] জেরিম্যান্ডারিং-এর ত্রুটিমুক্ত

সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রতিনিধি ব্যবস্থায় ক্ষমতাসীন দল বা জোট, নির্বাচনে নিজেদের জয়লাভ সুনিশ্চিত করতে নির্বাচনি এলাকার রদবদল ঘটায়। এই ব্যবস্থাকে ‘জেরিম্যান্ডারিং’ বলে। সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থায় জেরিম্যান্ডারিং-এর ত্রুটির আশঙ্কা থাকে না।

[6] সমস্ত মতামতের প্রতিনিধিত্ব

সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থায় সবরকম মতামতই প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পেয়ে থাকে। এজন্য সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের নীতির ভিত্তিতে গঠিত আইনসভাকে সমস্ত মতামতের প্রতিনিধিত্বকারী আইনসভা হিসেবে গণ্য করা যায়।

আরও পড়ুন – ভারতে সহজ সংখ্যাগরিষ্ঠ পদ্ধতিটি উদাহরণ-সহ আলোচনা করো

আরও পড়ুন প্রয়োজনে
সার্কের সাফল্য ও ব্যর্থতা সম্পর্কে আলোচনা করো (Exclusive Answer) Click here
সংবিধান সংশোধন এবং স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন (ষষ্ঠ অধ্যায়) প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 12 চতুর্থ সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান Click here
ভারত সরকারের বিভিন্ন বিভাগসমূহ (চতুর্থ অধ্যায়) প্রশ্ন উত্তর ক্লাস 12 চতুর্থ সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান Click here
বিশ্বায়ন (তৃতীয় অধ্যায়) রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর ক্লাস 12 চতুর্থ সেমিস্টার Click here

Leave a Comment