বাংলা প্রবন্ধসাহিত্যে মীর মশারফ হোসেনের অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো

ভূমিকা: উনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে যেসকল গদ্যশিল্পী গদ্যচর্চায় প্রয়াসী হয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে মীর মশারফ হোসেন (১৮৪৭-১৯১২) বিশেষ কৃতিত্ব অর্জন করেন। কলকাতার ‘সংবাদ প্রভাকর’ ও কুমারখালির ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ পত্রিকায় লেখালেখির মধ্য দিয়ে তাঁর আত্মপ্রকাশ। এরপর তিনি ধীরে ধীরে সাহিত্যসেবায় মনোনিবেশ করে কবিতা, প্রবন্ধ, নাটক, উপন্যাস রচনায় প্রবৃত্ত হন।
রচনাসমূহ: মশারফের প্রথম গ্রন্থ ‘রত্নবর্তী’ (১৮৬৯) একটি রূপকথাধর্মী রচনা। ‘এর উপায় কি?’ (১৮৭৫) গ্রন্থে উনিশ শতকের মধ্যবিত্ত শ্রেণির বেপরোয়া ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনের চিত্র ধরা পড়েছে। সাহিত্যজগতে তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি ‘বিষাদ-সিন্ধু’ (মহরম পর্ব ১৮৮৫, উদ্ধার পর্ব ১৮৮৭, এজিদবধ পর্ব ১৮৯১), ‘গো-জীবন’ (১৮৮৯), ‘উদাসীন পথিকের আত্মকথা’ (১৮৯০), ‘গাজী মিয়াঁর বস্তানী’ (১৯০০), ‘আমার জীবনী’ (১৯০৮-১০), ‘কুলসম জীবনী’ (১৯১০), ‘মোসলেম ভারত’ ইত্যাদি।
রচনারীতি: প্রাবন্ধিক মশারফের বাংলা ভাষা ছিল বিশুদ্ধ। তাঁর ভাষা হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের বাণী বহন করে। প্রসঙ্গত বলা যায়, মশারফের পূর্বে মুসলমান বাঙালি কর্তৃক লিখিত পাঠযোগ্য গদ্য তেমন ছিল না। তাঁর গদ্য সংস্কৃত শব্দবহুল হলেও তা ছিল অত্যন্ত শ্রুতিসুখকর। তাঁর আলাপচারিতাধর্মী রচনায় বিরামচিহ্নের যথার্থ ব্যবহার লক্ষ করা যায়। তাঁর ‘বিষাদ-সিন্ধু’ গ্রন্থে ছোটোবড়ো সকল ধরনের বাক্যই ব্যবহৃত হয়েছে। ‘গো-জীবন’ রচনার ভাষায় অকাট্য যুক্তি ও উদারমনস্ক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয় ঘটেছে। পরিশেষে বলা যায়, তাঁর রচনা ভারশূন্য, জাঁকজমকহীন ও স্বচ্ছন্দ গতিযুক্ত।
আরও পড়ুন – বই কেনা প্রবন্ধের প্রশ্ন উত্তর
📚 একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির স্টুডেন্টদের জন্য দারুণ সুযোগ!
আপনি কি কম সময়ে ভালোভাবে পড়াশোনা শেষ করতে চান?
পরীক্ষার আগে রিভিশন করতে সমস্যা হচ্ছে?
👉 তাহলে এখনই নিয়ে নিন আমাদের Complete PDF eBook Package
✨ এই eBook-এ যা পাচ্ছেন:
✔ সহজ ভাষায় পুরো সিলেবাস
✔ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
✔ পরীক্ষার জন্য সাজানো নোটস
✔ শর্ট টেকনিক ও সাজেশন
🎯 কার জন্য উপযোগী?
👉 একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির সকল ছাত্র-ছাত্রী
👉 বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন যারা
💡 মোবাইলেই পড়ুন, যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গায়!
🔥 মাত্র ২৫ টাকা প্রতিটা সাবজেক্ট