নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্বাধীনতার ধারণাটি ব্যাখ্যা করো

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্বাধীনতার ধারণাটি ব্যাখ্যা করো

অথবা, স্বাধীনতা সম্পর্কে নেতাজির ধারণাটি ব্যাখ্যা করো

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্বাধীনতার ধারণাটি ব্যাখ্যা করো
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্বাধীনতার ধারণাটি ব্যাখ্যা করো

স্বাধীনতার ধারণা

স্বাধীনতা হল স্ব-অধীনতা, অর্থাৎ অন্য কারোর ইচ্ছায় নয় নিজের ইচ্ছার অধীনে থেকে জীবনযাপন করাই হল স্বাধীনতা। যে দেশ পরাধীন বা যেখানে মানুষকে বিদেশি শক্তির দ্বারা পরিচালিত রাষ্ট্রব্যবস্থার অধীনে থাকতে হয় সেখানে স্বাধীনতা হল এক মহার্ঘ বস্তু। দেশকে এই পরাধীনতার দাসত্ব থেকে মুক্ত করার জন্য প্রয়োজন স্বাধীনতা সংগ্রাম। নেতাজি ছিলেন এই স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী সেনানায়ক। স্বাধীনতা সম্পর্কে তাঁর আহবান ছিল তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব। নেতাজির স্বাধীনতা সম্পর্কিত ধারণা তাঁর দেশপ্রেমের অনুভূতি, নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষদের প্রতি অঙ্গীকার, আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায়।

নেতাজির স্বাধীনতার ধারণাটিকে চারটি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-

  • রাজনৈতিক স্বাধীনতা: সুভাষচন্দ্র বসু ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিলেন এবং ভারতকে ব্রিটিশ শাসন মুক্ত একটি সম্পূর্ণ সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন একমাত্র সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়েই ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটবে এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হবে।
  • অর্থনৈতিক স্বাধীনতা: নেতাজি দেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার উপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেছিলেন অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা অসম্ভব। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি শিল্পায়নের কথা বলেছিলেন। তাঁর অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ধারণাটি দেশীয় শিল্পের বিকাশের সঙ্গে জড়িত ছিল। তিনি মনে করতেন দেশীয় শিল্পের বিকাশ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে এবং দারিদ্র্যতা হ্রাসে সহায়তা করবে।
  • সামাজিক স্বাধীনতা: নেতাজির মতে, ভারতীয় সমাজকে বিভিন্ন সামাজিক বৈষম্য (বর্ণবৈষম্য, অস্পৃশ্যতা) থেকে মুক্ত করতে না পারলে প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জন করা সম্ভব নয়। তিনি এমন একটি সমাজের কল্পনা করেছিলেন যেখানে সমস্ত নাগরিক তাদের জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সমান অধিকার ভোগ করবে। সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত হলেই প্রকৃত স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত হবে বলে তিনি মনে করতেন।
  • ধর্মীয় স্বাধীনতা: সুভাষচন্দ্র বসুর ধর্মীয় স্বাধীনতার ধারণাটি ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয় ঐক্য এবং সামাজিক সম্প্রীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। তাঁর মতে, ধর্মীয় স্বাধীনতার অর্থ হল ব্যক্তির সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনকে সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও ধর্মীয় হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত রাখা। তিনি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় নেতাজির স্বাধীনতার ধারণাটি ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারতকে সম্পূর্ণ মুক্ত করার ধারণার মধ্যে নিহিত ছিল। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তিনি আক্রমনাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণে বিশ্বাস করতেন। এক্ষেত্রে তিনি জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে এবং ধর্মীয় ও আঞ্চলিক বিভেদ অতিক্রম করতে সচেষ্ট হয়েছিলেন। নেতাজির স্বাধীনতার ধারণাটির সঙ্গে জাতীয়বাদী তত্ত্বটিও গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। এমনকি বর্তমানেও স্বাধীনতা সম্পর্কিত ক্ষেত্রে নেতাজির চিন্তাধারা আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়।

আরও পড়ুন – রাষ্ট্রের প্রকৃতি প্রশ্ন উত্তর

Leave a Comment