টীকা লেখো: মধ্যযুগের ভক্তিবাদী সাধক রামানুজ

টীকা লেখো: মধ্যযুগের ভক্তিবাদী সাধক রামানুজ

টীকা লেখো: মধ্যযুগের ভক্তিবাদী সাধক রামানুজ
টীকা লেখো: মধ্যযুগের ভক্তিবাদী সাধক রামানুজ

রামানুজ

রামানুজ (১০১৭- ১১৩৭ খ্রি.) হলেন ভক্তিবাদের আদি প্রবক্তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি মধ্যযুগের বৈষ্ণব ভক্তিবাদের প্রাণপুরুষ নামে পরিচিত। রামানুজকে শ্রী রামানুচার্য, লক্ষণমুণি নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে।

(1) প্রথম জীবন: ১০১৭ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ ভারতের শ্রীপেরুমবুদুরে রামানুজের জন্ম হয়। ছোটোবেলায় তিনি গুরু যাদব প্রকাশের কাছ থেকে বেদ অধ্যয়নের উদ্দেশ্যে কাঞ্চি যান। আলবার সাধক যমুনাচার্যের প্রধান শিষ্য ছিলেন তিনি। রামানুজ পরবর্তীতে গৃহত্যাগ করেন এবং শ্রীরঙ্গমের জ্যোতিরাজ নামক এক সন্ন্যাসীর থেকে দীক্ষালাভ করেন। দক্ষিণ ভারতের শালিগ্রামম অঞ্চলে তিনি বারো বছর বৈষ্ণব মত প্রচার করার পর সমগ্র ভারত ভ্রমণ করেন।

(2) মতাদর্শ: রামানুজের দর্শন বিশিষ্টাদ্বৈতবাদ নামে পরিচিত। তিনি শংকরাচার্যের মতের বিরোধিতা করে বলেন, ‘জ্ঞান মুক্তির অন্যতম একটি পথ, একমাত্র পথ নয়।’ তিনি মুক্তির জন্য ভক্তির উপরই বেশি গুরুত্ব আরোপ করেন। রামানুজের দর্শনে ঈশ্বর বা শক্তির সঙ্গে ব্রহ্ম (ঈশ্বর), চিত (আত্মা) এবং প্রাকৃত (প্রকৃতি) -এই তিনটি স্তরের কথা বলা হয়েছে। এই মতানুসারে, দেহ ও আত্মা কোনও স্বতন্ত্র বিষয় নয়। বস্তুত, দেহ যেমন নিজ লক্ষ্যসিদ্ধির জন্য কর্মরত থাকে, ঠিক তেমনই মন অথবা অমোঘ উপাদানগুলিও ব্রহ্ম বা ঈশ্বর ব্যতীত অস্তিত্বহীন।

(3) রচনাসমগ্র: রামানুজের লেখা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রচনা হল- গীতাভাষ্য, বেদান্তসার, বেদান্তসংগ্রহ ইত্যাদি। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলি শ্রীবৈষ্ণব দর্শন তথা ভক্তির প্রচারে ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

(4) মতবাদ প্রচার: রামানুজ একাদশ ও দ্বাদশ শতকের মধ্যে কর্ণাটক থেকে উত্তর ভারতে তাঁর বিশিষ্টাদ্বৈতবাদ আদর্শের প্রচার চালান। তিনি জাতপাত এবং সামাজিক বৈষম্যের বিরোধী ছিলেন। পাশাপাশি ভদ্র ও অস্পৃশ্যদের শিষ্যরূপে বরণ করতেন। তাঁর কাছে ভক্তির অর্থ কেবল কীর্তন ভজন কিংবা আরাধনা নয়, ভক্তি হল ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা ও ধ্যান করা। রামানুজ তাঁর শিষ্যদের কাছে ভক্তিমূলক গুরুবাদের প্রচার করতেন। তাঁর এই মতাদর্শ পরবর্তীকালে ভক্তি আন্দোলনের প্রসারে এক নতুন দুয়ার উন্মুক্ত করে দেয়। রামানুজ ছিলেন বৈষ্ণববাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাধক। তিনি ভক্তিবাদ ও হিন্দুদর্শনের মধ্যে এক সেতুবন্ধন করেছিলেন। তাঁর শিক্ষা ও জীবনাদর্শ ভারতীয় সংস্কৃতি, দর্শন ও ধর্মের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

আরও পড়ুন – রাষ্ট্রের প্রকৃতি প্রশ্ন উত্তর

আরও পড়ুন প্রয়োজনে
ভারতের উপর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব আলোচনা করো | Economic impact of World War I (1914) on India (Exclusive Answer) Click here
বাংলায় সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের বিবরণ দাও (Exclusive Answer) Click here
চরমপন্থী রাজনীতিতে বাল গঙ্গাধর তিলক, বিপিনচন্দ্র পাল, অরবিন্দ ঘোষ ও লালা লাজপত রায়ের ভূমিকা | ক্লাস 12 (Exclusive Answer) Click here
রাষ্ট্রের প্রকৃতি প্রশ্ন ও উত্তর | ক্লাস 11 দ্বিতীয় সেমিস্টার Click here

Leave a Comment