কোনো ব্যক্তিকে সম্পূর্ণরূপে ব্যাখ্যা করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের তথ্য, যেমন-সামাজিক, দৈহিক, জীবনীমূলক, পরিবেশগত, বৃত্তিমূলক ইত্যাদি সংগ্রহ করাকে কেস স্টাডি বলে। সংক্ষেপে কেস স্টাডি হল নানান ধরনের অভীক্ষা এবং কৌশল প্রয়োগ করে কোনো ব্যক্তির সম্পর্কে সামগ্রিক তথ্য সংগ্রহ। মোটকথা, অভিজ্ঞ ও পেশাগত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তির দ্বারা সাবজেক্ট (যার অপর কেস স্টাডি করা হচ্ছে) সম্পর্কীয় সামগ্রিক তথ্য যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করে সুপারিশ-সহ মন্তব্য করাকেই কেস স্টাডি বলে। কেস স্টাডিকে অনেকে ব্যক্তি অধ্যয়নও বলে থাকেন।
কেস স্টাডি পদ্ধতি কী? কেস স্টাডি পদ্ধতির সুবিধা ও অসুবিধা লেখো
কেস স্টাডি (Case Study]
শিক্ষাক্ষেত্রে কেস স্টাডি হল কোনো বিশেষ সমস্যাযুক্ত শিক্ষার্থীর সামগ্রিক পরিবেশ অনুশীলন করে তার সমস্যার কারণ খুঁজে বের করা। একটি কেস স্টাডি হল একটি নির্দিষ্ট বয়সের বিস্তারিত অধ্যয়ন। যেমন-একজন ব্যক্তি, গোষ্ঠী, স্থান, ঘটনা, সংস্থা ইত্যাদি। কেস স্টাডি সাধারণত সামাজিক, শিক্ষাগত, চিকিৎসাগত ও ব্যাবসায়িক গবেষণায় ব্যবহৃত হয়।
কেস স্টাডির উদ্দেশ্য
(1) কেস স্টাডির উদ্দেশ্য হল ‘তথ্যের যাবতীয় উৎসকে প্রয়োগ করে ব্যক্তি সম্পর্কে তথ্য জোগাড় করা’। কেস স্টাডিতে তথ্যসমূহকে এমনভাবে সংগঠিত এবং সমন্বিত করা হয় যে, কোনো ব্যক্তি কোনো পরিবেশে কীভাবে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বা তার অভিযোজন কৌশল কেমন তা সহজে জানা যায়।
(2) কেস স্টাডি প্রসঙ্গে একটি কথা মনে রাখা প্রয়োজন, তা হল কেস স্টাডি কিন্তু কেস হিস্ট্রি নয়। আসলে কোনো ব্যক্তির দৈহিক, মানসিক, সামাজিক অস্বাভাবিকতার বা অসুস্থতার ইতিহাস হল কেস স্টাডি। কেস স্টাডির আর-একটি উদ্দেশ্য হল ব্যক্তির উন্নত প্রকৃতির অভিযোজন। এক্ষেত্রে ব্যক্তির দক্ষতা ও দুর্বলতা, ক্ষমতা ও অক্ষমতা প্রভৃতি বিষয়ের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা হয় এবং ব্যক্তির সামগ্রিক বিকাশকে উদ্দীপিত ও সার্থক করে তোলা হয়।
কেস স্টাডির ধাপ
কেস স্টাডির ধাপগুলি হল-
(1) কেস নির্বাচন:
প্রথমে একটি কেস নির্বাচন করতে হবে। তারপর সেই কেসটি মধ্যে নতুন বা অপ্রত্যাশিত অন্তদৃষ্টি প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান অনুমানকে চ্যালেঞ্জ করতে হবে এবং একটি সমস্যা সমাধানের জন্য ও ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য দিকনির্দেশ করতে হবে।
(2) তাত্ত্বিক কাঠামো গঠন:
কেস স্টাডির দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে তাত্ত্বিক কাঠামো তৈরিকে সমর্থন করা হয়। এর অর্থ হল নিজের বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যাকে নির্দেশদানের জন্য মূল ধারণা ও তত্ত্বগুলিকে শনাক্ত করা।
(3) তথ্যসংগ্রহ:
কেস স্টাডির সাধারণত গুণগত তথ্যের উপর ফোকাস করা হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে পরিমাণগত তথ্যও গ্রহণ করা হয়।
(4) তথ্যের পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ:
কেস স্টাডির চতুর্থ ধাপ হল তথ্যের সঠিক পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ। এর উপরেই গবেষণার সাফল্য নির্ভর করে।
(5) প্রতিবেদন প্রস্তুতকরণ:
তথ্য বিশ্লেষণের পর গৃহীত সিদ্ধান্ত-সহ সমস্ত বিষয় রিপেটি বা প্রতিবেদন আকারে লিপিবদ্ধ করা হয়।
কেস স্টাডির সুবিধা
কেস স্টাডি পদ্ধতি অবলম্বন করে ডেটা সংগ্রহ করলে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাওয়া যায়। সুবিধাগুলি হল-
(1) সুগভীর তথ্যানুসন্ধান:
কেস স্টাডি পদ্ধতিতে কোনো ব্যক্তি, শ্রেণি, গোষ্ঠী, সমষ্টি, প্রতিষ্ঠান, ঘটনা, সম্পর্ক, অবস্থা বিষয়ে সগভীর এবং সুবিস্তৃত তথ্য পাওয়া যায়। ওই তথ্যের মাধ্যমে গবেষণার অনেক গভীরে পৌঁছানো যায়।
(2) তুলনামূলক বিশ্লেষণে সহায়তা:
এই ধরনের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে দুটি পৃথক কেসকে তুলনা করা যায়।
(3) অনুরূপ গঠনে সক্ষমতা:
এই পদ্ধতিটি সুসংবদ্ধ অনুরূপ গঠনে সহায়ক হয়।
(4) ব্যক্তির বিভিন্ন মানসিকতা বিষয়ে অনুসন্ধান:
কেস স্টাডির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির আবেগ, দৃষ্টিভঙ্গি, মানসিকতা, আচরণ, কোনো বিশেষ অবস্থায় তার প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।
(5) জ্ঞান বৃদ্ধিতে এবং নতুন গবেষণাতে সহায়তা:
কেস স্টাডি পদ্ধতি একদিকে যেমন গবেষকের বা পরীক্ষকের জ্ঞান বৃদ্ধিতে সহায়তা করে; অন্যদিকে এটি পরবর্তী গবেষণার ক্ষেত্র প্রস্তুতও করে।
(6) নতুন তথ্যপ্রাপ্তি ও অনুমান গঠনে সহায়তা:
এই ধরনের পদ্ধতির প্রয়োগের ফলে বহু নতুন নতুন তথ্য বেরিয়ে আসে এবং এর মাধ্যমে নতুন চিন্তাধারা ও অনুমান গঠনের কাজ সহজতর হয়।
(7) গবেষণার ত্রুটিবিচ্যুতি দূরীকরণে ও নির্ভরযোগ্য তথ্য উদঘাটনে সহায়তা:
কেস স্টাডি পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহের ফলে এবং একাধিক ব্যক্তির মধ্যে তুলনা করার সময় অনেক ধরনের ত্রুটি সংশোধন করা যায়। এক্ষেত্রে একাধিক প্রশ্ন রাখার সুবিধা আছে বলে পরিশোধিত তথ্যও পাওয়া যায়।
(8) গোপন তথ্যর প্রাপ্তিতে সহায়তা:
একান্ত গোপনীয় তথ্যও কেস স্টাডির মাধ্যমে পাওয়া যায়, ফলে গবেষণার সাফল্য ত্বরান্বিত হয়।
কেস স্টাডির ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা
কেস স্টাডি পদ্ধতির বহুবিধ সুবিধা থাকা সত্ত্বেও এর মধ্যে বহু ত্রুটি লক্ষ্য করা যায়। এগুলি হল-
(1) অপ্রাসঙ্গিক তথ্যের অবতারণা:
কেস স্টাডিতে বহু অপ্রাসঙ্গিক তথ্য চলে আসে। ব্যক্তির আত্মনিষ্ঠ, মূল্যবোধ জড়িত এবং পক্ষপাতদুষ্ট তথ্যও সংগৃহীত হয়।
(2) কষ্টকর ও সময়সাপেক্ষ:
এই পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহের সময় ব্যক্তিগত ডায়েরি, দলিল, রেকর্ড, জার্নাল, পত্র- পত্রিকা ইত্যাদির প্রয়োজন হয়। বাস্তবে এগুলি পেতে খুবই বেগ পেতে হয় এবং সময়ও লাগে।
(3) নির্ভরযোগ্যতাহীন তথ্য:
এই পদ্ধতিতে ব্যক্তি এমনসব তথ্য পরিবেশন করেন, যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে মূল্যহীন। ফলে ওই তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা থাকে না বলেই চলে।
(4) সাধারণীকরণ ও তুলনা করার অযোগ্যতা:
কেস স্টাডি থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সাধারণীকরণ বা তুলনা-করণের ক্ষেত্রে সুযোগ কম থাকে। কারণ বিভিন্ন ব্যক্তির মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা, ব্যক্তিত্ব, চাহিদা, পছন্দ, অপছন্দ এক নয়।(5) গবেষকের যোগত্যার অভাব ও ভ্রান্ত প্রভাব: কেস স্টাডি পদ্ধতির প্রয়োগ করতে গেলে গবেষকের পর্যাপ্ত জ্ঞান, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা থাকা দরকার হয়। অনেকেরই তা থাকে না। তা ছাড়া বিজ্ঞানসম্মত উপায় অবলম্বনের সুযোগ কম থাকায় এতে প্রাপ্ত সিন্ধান্ত বিষয়ে গবেষকের ভ্রান্ত প্রভাব লক্ষ করা যায়।
আরও পড়ুন | Link |
ছুটি গল্পের বড় প্রশ্ন উত্তর | Click Here |
তেলেনাপোতা আবিষ্কার বড় প্রশ্ন উত্তর | Click Here |
আগুন নাটকের বড়ো প্রশ্ন উত্তর | Click Here |