বাংলায় সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের বিবরণ দাও

ভারতবর্ষের অগ্নিযুগে সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র ছিল বাংলা। প্রথমদিকে সমিতি প্রতিষ্ঠা করে বিপ্লবী কাজকর্ম শুরু হয়। ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে মেদিনীপুর সোসাইটি এবং সরলা ঘোষাল স্থাপিত বালিগঞ্জ-সার্কুলার রোডের ব্যায়াম সমিতি এই কাজের সূচনা করে। ওই বছরেই সতীশচন্দ্র বসু প্রতিষ্ঠা করেন অনুশীলন সমিতি (১৯০২ খ্রি.)। ইতিপূর্বে কলকাতা-হাওড়ার কিছু যুবক গঠন করেছিলেন আত্মোন্নতি সমিতি। সমিতিগুলি লাঠিখেলা, শরীরচর্চা ইত্যাদির মাধ্যমে যুবদলকে আত্মশক্তি অর্জনের প্রশিক্ষণ দেয়।
অনুশীলন সমিতি
বাংলার জাতীয় জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে অনুশীলন সমিতি-র উদ্ভব ঘটে। বস্তুত, বাংলার বিপ্লবী আন্দোলনের পথিকৃৎ ছিল অনুশীলন সমিতি।
প্রতিষ্ঠার ইতিহাস: সতীশচন্দ্র বসু-র উদ্যোগে ও সহায়তায় ব্যারিস্টার পি মিত্র (প্রমথনাথ মিত্র) অনুশীলন সমিতির কার্য পরিচালনা শুরু করেন। এই সমিতির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায় যে, জেনারেল অ্যাসেম্বলিজ ইনস্টিটিউশন (বর্তমান স্কটিশচার্চ কলেজ)-এর ছাত্র শ্রী সতীশচন্দ্র বসু কলেজেই শরীরচর্চা করতেন। পরবর্তীতে কলেজ প্রাঙ্গণেই তিনি একটি ব্যায়ামাগার স্থাপন করেন। এখান থেকে অনুশীলন সমিতির প্রথম সূত্রপাত। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯০২ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে দোলপূর্ণিমার দিনে কলকাতায় প্রথম অনুশীলন সমিতি স্থাপিত হয়। প্রথমদিকে হেদুয়ার নিকটবর্তী ২১ নং মদন মিত্র লেন-এর ব্যায়ামক্ষেত্র ও তার ঠিক কাছেই একটি ছোটো বাড়িতে সমিতির কার্যালয় ছিল। পরে সমিতির অফিস ৪৯ নং কর্নওয়ালিস স্ট্রিটে স্থানান্তরিত হয়। সম্ভবত নিউ ইন্ডিয়ান স্কুলের প্রধান শিক্ষক নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য এই সংগঠনের নামকরণ করেছিলেন ভারত অনুশীলন সমিতি, পরবর্তীতে পি মিত্র সংক্ষেপে অনুশীলন সমিতি নাম দেন।
সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যবৃন্দ: খ্যাতনামা ব্যারিস্টার প্রমথনাথ মিত্র অনুশীলন সমিতির সভাপতি পদে আসীন হন। সমিতির যাবতীয় আর্থিক দায়দায়িত্ব এসময় তিনি গ্রহণ করেন। সহকারী সভাপতি হন- অরবিন্দ ঘোষ ও চিত্তরঞ্জন দাশ, সম্পাদক সতীশচন্দ্র বসু ও কোশাধ্যক্ষ হন সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
সমিতির আদর্শ: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর অনুশীলন তত্ত্বে (সমিতির নামকরণ হয় এই অনুশীলন তত্ত্ব-এর আদর্শ থেকে) শারীরিক, মানসিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উৎকর্ষের সমন্বয়ে আদর্শ মানব ও মানবচরিত্র গঠনের যে নির্দেশ প্রদান করেছিলেন, সেটিই ছিল অনুশীলন সমিতির মূলভিত্তি। শারীরিক শক্তিবৃদ্ধির জন্য ব্যায়াম, লাঠিখেলা প্রভৃতির পাশাপাশি শিক্ষা-সংস্কৃতি সর্বোপরি চরিত্র গঠনের দিকে বিশেষ দৃষ্টিপাত করা হত এই সমিতিতে।
সমিতির ছিল দুটি অঙ্গ, যথা- প্রকাশ্য ও গুপ্ত। এর মধ্যেও আবার স্তরের বিভেদ ছিল। প্রত্যেকটি স্তরের সদস্যদের গ্রহণ করতে হত একটি করে প্রতিজ্ঞা। এইরূপ চারটি স্তরের প্রতিজ্ঞাগুলি আদ্য, অন্ত্য, প্রথম বিশেষ ও দ্বিতীয় বিশেষ নামে অভিহিত হত। বলাবাহুল্য, এই প্রতিজ্ঞাপত্রের প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিয়মানুবর্তিতা, শৃঙ্খলাবোধ, চরিত্রগঠন, গোপনীয়তা বজায় রাখা প্রভৃতি সম্পর্কিত নির্দেশ রয়েছে।
সমিতির শিক্ষা: অনুশীলন সমিতিতে বিবিধ বিষয়ে শিক্ষাদান চলত। দেশ-বিদেশের উৎকৃষ্ট গ্রন্থসমূহ পাঠের জন্য সকলকে উৎসাহ প্রদান করা হত- ম্যাৎসিনি (Mazzini), গ্যারিবন্ডি (Garibaldi)-র জীবনচরিত, ফরাসি বিপ্লবের ইতিহাস ছিল পাঠ্যের অন্তর্ভুক্ত, বিভিন্ন দেশের স্বাধীনতার কাহিনি, দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা চলত, তাছাড়া স্বামী বিবেকানন্দ-এর জ্ঞানযোগ, কর্মযোগ প্রভৃতি রচনাবলি, অশ্বিনীকুমার দত্ত-এর ভক্তিযোগ ও সংযম শিক্ষা ছিল অবশ্যপাঠ্য। প্রত্যেক সদস্যকে গীতা পাঠ করতে হত, পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষাদান এবং রামায়ণ, মহাভারত, চণ্ডীপাঠ ও ব্যাখ্যা ইত্যাদি চলত।
সমিতির জনপ্রিয়তা ও শাখা স্থাপন: কালক্রমে অনুশীলন সমিতি দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে। কলকাতার একাধিক স্থানে ও উপকণ্ঠে সমিতির বহু শাখা স্থাপিত হয়। ইতিমধ্যে বরোদা থেকে এসে যতীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় (পরবর্তীতে স্বামী নিরালম্ব) এক সময় যোগ দেন অনুশীলন সমিতিতে। কিছুকালের মধ্যে অরবিন্দ ঘোষ-এর কনিষ্ঠ ভ্রাতা বারীন্দ্র কুমার ঘোষ-সহ অনেকেই সমিতির সঙ্গে যুক্ত হন। স্বদেশি আন্দোলন শুরু হলে বিপ্লবীদের কাজেও তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। আলোচ্য পর্বে রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রামে অনুশীলন সমিতির শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে পুলিনবিহারী দাস-এর উদ্যোগে পরিচালিত ঢাকা অনুশীলন সমিতি (১৯০৫ মতান্তরে ১৯০৬ খ্রি.) ছিল সর্বাধিক জনপ্রিয়।
মুগান্তর দল
বাংলার সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাসে যুগান্তর দল-এর – ভূমিকা অবিস্মরণীয়। বর্ষীয়ান বিপ্লবী নেতা ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী যুগান্তর দল প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষিত সম্পর্কে লিখেছিলেন যে, অনুশীলন সমিতির কার্যকলাপ কিছু দূর এগোনোর পর পি মিত্র-এর সঙ্গে বারীন্দ্র ঘোষ-সহ সমিতির কিছু তরুণ সদস্যদের কর্মপদ্ধতি নিয়ে মতভেদ ঘটে। বারীন্দ্র ঘোষ-সহ অনেকেই সহিংস কাজকর্মের পক্ষপাতী ছিলেন, অন্যদিকে প্রমথনাথ মিত্র মূলত গঠনমূলক কাজকর্ম, শরীরচর্চা ইত্যাদির উপর জোর দেওয়ায় অনুশীলন সমিতির মধ্যে ভাঙন ধরে। বস্তুতপক্ষে এই পর্বে বারীন্দ্র ঘোষ, উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মতো যুবগোষ্ঠী ক্রমশ রাজনৈতিক প্রচারের দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং এই কাজে তাঁরা অরবিন্দ ঘোষ, সখারাম দেউস্কর-এর থেকে অনুপ্রেরণা লাভ করেন।
যুগান্তর পত্রিকা ও যুগান্তর দলের প্রতিষ্ঠা: বারীন্দ্র ঘোষ ও তাঁর সহযোগী তরুণ গোষ্ঠীর এক দুঃসাহসিক কাজ ছিল যুগান্তর নামক একটি বিপ্লবী পাক্ষিক পত্রিকা প্রকাশ (১৯০৬ খ্রিস্টাব্দের ১৮ মার্চ)। স্বামী বিবেকানন্দ-এর কনিষ্ঠ ভ্রাতা ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক। লেখকদের মধ্যে ছিলেন উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবব্রত বসু, অবিনাশচন্দ্র ভট্টাচার্য, বারীন্দ্র কুমার ঘোষ, কিরণচন্দ্র মুখার্জী প্রমুখ। এই পত্রিকা সশস্ত্র পথে গেরিলা পদ্ধতিতে সংঘর্ষের আদর্শ প্রচার করতে থাকে। ক্রমেই বারীন্দ্র কুমার ঘোষ, হেমচন্দ্র কানুনগো, উল্লাসকর দত্ত, অবিনাশচন্দ্র ভট্টাচার্য প্রমুখ সশস্ত্র সংঘর্ষে নামার প্রস্তুতি নেন। এঁরা যুগান্তর গোষ্ঠী নামে পরিচিতি লাভকরেন। এই দল প্রতিষ্ঠায় অরবিন্দ ঘোষ ও ভগিনী নিবেদিতা-র প্রবল উৎসাহ ছিল। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আলোচ্য পর্বে অরবিন্দ ঘোষ সম্পাদিত বন্দেমাতরম্, ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় সম্পাদিত সন্ধ্যা প্রভৃতি পত্রপত্রিকা বিপ্লবী ভাবধারা প্রচারে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল।
উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি: যুগান্তর দল অস্ত্র সংগ্রহ, বিপ্লবী ভাবাদর্শে অনুপ্রাণিত ভারতীয় যুবকদের বিদেশে প্রেরণ করে অস্ত্র নির্মাণের কৌশল আয়ত্ত করা, ভবিষ্যতে সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও সরঞ্জাম সংগ্রহ ইত্যাদি কর্মসূচি গ্রহণ করে। জানা যায়, বোমা তৈরির কৌশল শেখার জন্য বিপ্লবী হেমচন্দ্র কানুনগো (মেদিনীপুর নিবাসী) তাঁর পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে প্যারিসে যান। ফিরে এসে কলকাতার বিভিন্ন স্থানে গড়ে তোলেন বোমা তৈরির কারখানা। এর মধ্যে মুরারিপুকুরের একটি বাগানবাড়িতে স্থাপিত বোমার কারখানাটি সর্বপ্রথম সরকারের নজরে আসে। পাশাপাশি বিপ্লবী আন্দোলনের জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে স্বদেশি ডাকাতি শুরু হয়। রংপুরে প্রথম ডাকাতি সংঘটিত হয় (১৯০৬ খ্রি.)। এসময় মূলত ইংরেজদের সমর্থক বা সহযোগী ধনী ব্যক্তিদের ধনসম্পদ লুণ্ঠন করা হত।
বিভিন্ন বিপ্লবী সমিতির সশস্ত্র বৈপ্লবিক কার্যকলাপ
স্বদেশি ডাকাতির পাশাপাশি পদস্থ ইংরেজ কর্মচারীদের হত্যার মাধ্যমে ত্রাসের সঞ্চার ঘটাতে গ্রহণ করা হয় বিভিন্ন পদক্ষেপ।
① গুপ্তহত্যার প্রথম প্রচেষ্টা: যুগান্তর গোষ্ঠীর উদ্যোগে পূর্ববঙ্গের অত্যাচারী লেফটেন্যান্ট গভর্নর ফুলার (Bampfylde Fuller)-কে হত্যার চেষ্টা করা হয় (১৯০৭ খ্রি.)। পরের বছর বাংলার গভর্নর অ্যান্ড্রু ফ্রেজার-কেও হত্যার জন্য সচেষ্ট হন বিপ্লবীরা। তবে দুটি প্রয়াসই ব্যর্থ হয়। তাছাড়া ঢাকার ভূতপূর্ব ম্যাজিস্ট্রেট মি. অ্যালেন (Allen)-কে লক্ষ করে গুলি চালানো হয় (১৯০৭খ্রিস্টাব্দ)। তিনি আহত হলেও বেঁচে যান।
② কিংসফোর্ড-কে হত্যার প্রচেষ্টা: বাংলার বিপ্লবীদের ব্যক্তিহত্যার তালিকায় একটি বিশেষ নাম ছিল কলকাতার অত্যাচারী প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট মি. কিংসফোর্ড (Magistrate Douglas Kingsford)। তিনি একবার একটি যুবককে অতি সামান্য অপরাধের জন্য বেত্রদণ্ডে দণ্ডিত করেন। এর প্রতিশোধ নিতে যুগান্তর দলের পরিচালকেরা তৎপর হয়ে ওঠেন। ইতিমধ্যে কিংসফোর্ড বিহারের মুজফ্ফরপুরে বদলি হয়ে যান। তাঁকে হত্যা করার কঠিন শপথ নিয়ে মুজফফরপুরে যান ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকি নামক দুই নবীন বিপ্লবী। কিন্তু তাঁরা ভুলবশত জনৈকা মিসেস কেনেডি ও তাঁর কন্যার গাড়িতে বোমা ছোড়েন (১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ৩০ এপ্রিল)। পুলিশের হাতে ধরা পড়ার আগেই প্রফুল্ল চাকি মোকামা স্টেশনে নিজের পিস্তলের গুলিতে আত্মহত্যা করেন। ক্ষুদিরাম বসু-র ফাঁসি হয় (১১ আগস্ট, ১৯০৮ খ্রি.)। উনিশ বর্ষীয় কিশোর ক্ষুদিরামের নির্ভীক মৃত্যুবরণ সারাদেশে অভূতপূর্ব উন্মাদনা তৈরি করে।
আলিপুর ষড়যন্ত্র মামলা: এই ঘটনার সূত্র ধরে পুলিশ মুরারিপুকুর বাগানবাড়িতে তল্লাশি চালায় এবং অরবিন্দ ঘোষ-সহ ৪৭ জনকে গ্রেফতার করে। এঁদের বিরুদ্ধে রুজু হয় বিখ্যাত আলিপুর ষড়যন্ত্র মামলা (১৯০৮ খ্রি.)। মোটামুটিভাবে ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ৪ মে থেকে ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দের ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত দু-ভাগে এই মামলা চলেছিল। বিপ্লবীদের পক্ষে ওকালতি করেন চিত্তরঞ্জন দাশ। মামলা চলাকালীন নরেন গোঁসাই নামক জনৈক বিপ্লবী তাঁর জমিদার-পিতার পরামর্শে দলের গোপন তথ্য ফাঁস করে দেন। বাধ্য হয়ে বিপ্লবী কানাইলাল দত্ত ও সত্যেন্দ্রনাথ বসু জেলের মধ্যেই গোপনে পিস্তল এনে নরেন-কে হত্যা করেন। বিচারে তাঁদেরও ফাঁসি হয়। এক বছর পর আলিপুর মামলার নিষ্পত্তি হয়। অরবিন্দ ঘোষ মুক্তি পান। কিন্তু বারীন্দ্র ঘোষ, উল্লাসকর দত্ত-সহ অধিকাংশ বিপ্লবীর দীর্ঘ কারাদণ্ড বা দ্বীপান্তর হয়। অতঃপর অরবিন্দ ঘোষ প্রত্যক্ষ রাজনীতি ছেড়ে পন্ডিচেরিতে সন্ন্যাস জীবন শুরু করেন।
দমননীতি
সরকার কঠোর হাতে বিপ্লবী আন্দোলন দমনের চেষ্টা চালায়। পুলিনবিহারী দাস, অশ্বিনীকুমার দত্ত, শ্যামসুন্দর চক্রবর্তী, সুবোধ চন্দ্র মল্লিক-সহ অনেককে নির্বাসনে পাঠানো হয়। অনুশীলন সমিতি ও যুগান্তর দল-কে নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করা হয় (১৯০৯ খ্রি.)। অবশ্য দমনপীড়ন সত্ত্বেও বিপ্লবী কর্মকান্ড স্তব্ধ করে দেওয়া যায়নি। ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ৯ নভেম্বর বিপ্লবীরা নন্দলাল ব্যানার্জী, যিনি প্রফুল্ল চাকি-কে গ্রেফতারের চেষ্টা করেছিলেন তাঁকে হত্যা করেন। এরপর ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দের ১০ ফেব্রুয়ারি আলিপুর বোমা মামলার সরকারি আইনজীবী আশুতোষ বিশ্বাস-কে এবং উক্ত বছরেই ২৪ জানুয়ারি ডি.এস.পি সামসুল আলম-কে কলকাতা হাইকোর্টের ভিতরে গুলি করে হত্যা করা হয়। সরকার বিদ্রোহমূলক জনসভা নিবারক আইন (Prevention of Seditious Meetings Act, ১৯১১ খ্রি.) প্রণয়ন করে বিপ্লবীদের ছত্রভঙ্গ করতে চেষ্টা করে। ওই বছরেই সরকার বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত রদ করতে বাধ্য হয় (১২ ডিসেম্বর, ১৯১১ খ্রি.)।
আরো পড়ুন : উচ্চমাধ্যমিক চতুর্থ সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর