চরমপন্থী রাজনীতিতে বাল গঙ্গাধর তিলক, বিপিনচন্দ্র পাল, অরবিন্দ ঘোষ ও লালা লাজপত রায়ের ভূমিকা

বাংলা-মহারাষ্ট্র-পাঞ্জাব ছিল চরমপন্থী রাজনীতির মূল কেন্দ্রসমূহ। লাল-বাল-পাল নামে সমধিক পরিচিত চরমপন্থী রাজনীতির অগ্রণী নেতা লালা লাজপত রায়, বাল গঙ্গাধর তিলক, বিপিনচন্দ্র পাল যথাক্রমে পাঞ্জাব, মহারাষ্ট্র ও বাংলায় চরমপন্থী মতাদর্শ ও আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যান। বাংলার অরবিন্দ ঘোষ-ও ছিলেন এই ধারার একজন গুরুত্বপূর্ণ পথিকৃৎ। ভারতের জাতীয় রাজনীতি ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এঁদের অবদান অনস্বীকার্য।
চরমপন্থী রাজনীতিতে বাল গঙ্গাধর তিলকের ভূমিকা
ভারতের চরমপন্থী রাজনীতির অন্যতম অগ্রণী প্রবক্তা ও পথিকৃৎ ছিলেন মহারাষ্ট্রের বিশিষ্ট নেতা বাল গঙ্গাধর তিলক (২৩ জুলাই, ১৮৫৬ খ্রি. ১ আগস্ট, ১৯২০ খ্রি.)। জনপ্রিয়তার কারণে তিলক লোকমান্য অভিধায় ভূষিত হয়েছিলেন। তিনিই প্রথম জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকে উচ্চশিক্ষিত তথা শহুরে মানুষজনের গণ্ডি থেকে সাধারণ জনগণের মধ্যে প্রসারিত করার জন্য উদ্যোগী হন। পট্টভি সীতারামাইয়া তিলক সম্পর্কে এক জায়গায় মন্তব্য করেছিলেন যে, ‘যেখানে গোখলের স্থান ছিল আইনসভায়, সেখানে তিলক প্রতি গ্রামের মণ্ডপে স্থান পান।’
প্রথম জীবন: বাল গঙ্গাধর তিলক মহারাষ্ট্রের রত্নগিরিতে ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে এক চিৎপাবন ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা গঙ্গাধর রামচন্দ্র তিলক-এর কাছ থেকে তিনি সংস্কৃত, গণিত ও মারাঠি ভাষা শিক্ষায় অত্যন্ত উৎসাহ পান। ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে তিলক প্রথম শ্রেণির অনার্স নিয়ে বি.এ পরীক্ষা পাস করে আইন নিয়ে পড়েন। ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে আইন পরীক্ষায় পাস করে তিনি এল এল বি (LLB) উপাধি পান। তিনি ও তাঁর কয়েকজন সহকর্মী ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে ডেকান এডুকেশন সোসাইটি (Deccan Education Society) এবং ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে ফার্গুসন কলেজ (Fergusson College, পুনা) প্রতিষ্ঠা করেন। এই ফার্গুসন কলেজে বেশ কিছুসময় তিলক অধ্যাপনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ও মতাদর্শ
শিক্ষাদানকেই জীবনের মহান ব্রতরূপে গ্রহণ করে তিলক তাঁর কর্মজীবনের সূত্রপাত করেছিলেন। কিন্তু কেবল শিক্ষাদানের মধ্যেই তাঁর অসামান্য কর্মশক্তি সীমিত ছিল না। ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ তিনি যোগদান করেন জাতীয় কংগ্রেসে। তাঁর জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রধান ভিত্তিই ছিল রাজনৈতিক ভিক্ষাবৃত্তি পরিত্যাগ করে আত্মশক্তির মাধ্যমে স্বাধিকার প্রতিষ্ঠা করা। বস্তুত, তিলকের চরমপন্থী ভাবধারা প্রসারের মূল উদ্দেশ্য ছিল- ভারতবাসীর সামনে ব্রিটিশ শাসন ও শোষণের স্বরূপ তুলে ধরা, বিদেশি শাসনে বিপন্ন হিন্দু ধর্মকে রক্ষা ও পতনোন্মুখ হিন্দু সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবন ঘটানো, বিভিন্ন ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক চরিত্রের মাধ্যমে ভারতীয়দের ঐক্যবদ্ধ করা ইত্যাদি। তিলক দেশবাসীকে নির্ভীক, আত্মত্যাগী, গর্বিত ও আত্মবিশ্বাসী হতে আহ্বান জানান। তিনি গর্বের সঙ্গে বলতেন যে, স্বরাজ আমার জন্মগত অধিকার এবং আমি তা অর্জন করবই (Swaraj is my birthright and I must have it) I
মারাঠা (মাহরাট্টা) ও কেশরী পত্রিকা প্রকাশ: সাংবাদিকতায় তিলক-এর প্রতিভা ছিল অসাধারণ। ইংরেজিতে মারাঠা এবং মারাঠি ভাষায় কেশরী নামক দুটি পত্রিকা প্রকাশ করে তিনি তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রচারে উদ্যত হন। এই পত্রিকা দুটির বিভিন্ন প্রবন্ধে বাল গঙ্গাধর তিলক নরমপন্থীদের আবেদন-নিবেদন নীতির বিরুদ্ধে প্রচার চালানোর পাশাপাশি আপামর ভারতবাসীকে স্বরাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ব্রতী হতে আহ্বান জানান। কালক্রমে এই দুটি পত্রিকাই অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
গণপতি উৎসব ও শিবাজি উৎসব পালন
গণসংযোগ বাড়ানোর জন্য তিলক নানারকম ঐতিহ্য আশ্রিত সামাজিক উৎসবের আয়োজন করতেন। মহারাষ্ট্রের জনপ্রিয় গণপতি উৎসব-কে তিনি জাতীয় উৎসবে রূপান্তরিত করেন। ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে গণপতি উৎসবে বক্তৃতা, নাটক, গান ইত্যাদির মাধ্যমে শুরু করেন জাতীয়তাবাদের আদর্শের প্রচার। মানুষে মানুষে ভাববিনিময়, জাতীয়তাবাদী চেতনার স্ফুরণ ঘটাতে তিলকের এই প্রচেষ্টা খুবই কার্যকর হয়।
১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে তিলকের উদ্যোগে শুরু হয় শিবাজি উৎসব। জানা যায়, শিবাজির রাজধানী রায়গড়ে তাঁর স্মৃতিসৌধের ভগ্নস্তূপকে কেন্দ্র করে তিলক প্রথম শিবাজি উৎসবের সূচনা করেন। মহারাজা শিবাজির আদর্শ, বীরত্ব, আত্মত্যাগ ও অখন্ড ভারত রাষ্ট্র গঠনের কাহিনি প্রচার করে তিনি দেশবাসীকে জাতীয়তার নামে ঐক্যবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করেন। ড. রমেশচন্দ্র মজুমদারের মতে, শিবাজি উৎসব একটি রাজনৈতিক চরিত্র পেয়েছিল। শিবাজির বীরত্ব ও আত্মত্যাগ বিষয়ক আলোচনা দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদী চেতনার জাগরণে সহায়ক ছিল।
তিলক-এর রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্ব
বাল গঙ্গাধর তিলক তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্বে সাধারণ ভারতবাসীর মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার বিস্তার এবং গণ আন্দোলন সংগঠিত করার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দের দুর্ভিক্ষের প্রতিবাদ: ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ মহারাষ্ট্রে ব্যাপক দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে বাল গঙ্গাধর তিলক ব্রিটিশ সরকারের কাছে দুর্ভিক্ষ নিবারণ আইন অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন। কিন্তু এই বিষয়ে ব্রিটিশ সরকার উদাসীন থাকে। তিলক দুর্ভিক্ষ নিবারণ আইনের ধারাগুলির ব্যাখ্যা সংবলিত একটি প্রচার পুস্তিকা রচনা করে জনগণের কাছে প্রচার করেন। কেশরী পত্রিকাতেও জনগণের কাছে আবেদন জানান যাতে তারা খাজনা বয়কটের সিদ্ধান্ত নেন। কালক্রমে কৃষকদের মধ্যে তিলকের প্রভাব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তাঁর পরামর্শে মহারাষ্ট্রের কৃষক শ্রেণি সরকারকে খাজনা দিতে অস্বীকার করে।
ব্রিটিশ পণ্য বয়কট: লর্ড এলগিন ভারতীয় মিলে তৈরি কাপড়ের উপর শুল্ক বসালে তিলক ব্রিটিশ পণ্য বয়কটের ডাক দেন। তিলকের এই জনপ্রিয়তা ও লড়াকু মনোভাবে ব্রিটিশ সরকার শঙ্কিত হয়। প্লেগ মহামারির বিরুদ্ধে আন্দোলন: ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে মহারাষ্ট্রের পুনায় ব্যাপক প্লেগ মহামারি দেখা দেয়। ব্রিটিশ সরকার প্লেগ নিবারণের জন্য যে নীতি গ্রহণ করেছিল তা সেখানকার মানুষদের কাছে ছিল চরম সম্মানহানি ও ধর্মীয় অপবিত্রতার শামিল। ফলস্বরূপ, মহারাষ্ট্রের জনগণ ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তিলক তাঁর মারাঠা (মাহরাট্টা) পত্রিকায় লেখেন যে, পুনা শহরে তাণ্ডবকারী প্লেগ কর্মীদের চেয়ে প্লেগ নামক মহামারি অনেক মঙ্গলজনক।
এই মহামারিকে কেন্দ্র করে চাপেকর ভ্রাতৃদ্বয় (দামোদর চাপেকর ও বালকৃষ্ণ চাপেকর) পুনার অত্যাচারী কালেক্টর তথা সেই সময়ের প্লেগ কমিশনার মি. র্যান্ড (Rand) ও তাঁর সহকারী মি. আয়ার্স্ট (Ayerst)-কে হত্যা করেন। এই হত্যাকাণ্ডে ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগ এনে সরকার তিলক-কে গ্রেফতার করে (১৮৯৭ খ্রি.)। বিচারে তাঁর ১৮ মাসের কারাদণ্ড হয়। তবে এই ঘটনা তিলকের জনপ্রিয়তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর প্রতিবাদে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ধর্মঘট ও আন্দোলন চলতে থাকে। বলাবাহুল্য, মুক্তিলাভের পর তিনি সর্বভারতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা: ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনে তিলক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মারাঠা ও কেশরী পত্রিকায় বিভিন্ন প্রবন্ধের মাধ্যমে তিনি স্বদেশি আন্দোলনের বার্তা ছড়িয়ে দেন। তিলক বলেন যে, বয়কট ও নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ হল আমাদের অস্ত্র।
রাজদ্রোহের অভিযোগ ও গ্রেফতার: ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে মুজফ্ফরপুরে ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকি-র বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার পর তিলক তাঁর কেশরী পত্রিকায় এইসব বিষয় নিয়ে কয়েকটি প্রবন্ধ লেখেন। ফলস্বরূপ, ব্রিটিশ সরকার তাঁর বিরুদ্ধে রাজদ্রোহের অভিযোগ আনে ও ৬ বছরের জন্য মান্দালয়ে নির্বাসিত করে। এসময় ব্রিটিশ সরকারের দণ্ডের আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরূপ বোম্বাইয়ের শ্রমিক শ্রেণি সপ্তাহব্যাপী চরম অরাজকতা সৃষ্টি করে। শোলাপুরের কৃষক সম্প্রদায়ও প্রবল দাঙ্গা-হাঙ্গামা করে।
হোমরুল আন্দোলনে নেতৃত্ব: মান্দালয় জেল থেকে ফিরে আসার কয়েক বছরের মধ্যে তিলক ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে বেলগাঁওতে বোম্বাইয়ের প্রাদেশিক সভায় হোমরুল লিগ (Home Rule League) প্রতিষ্ঠা করে হোমরুল আন্দোলন (Indian Home Rule Movement) শুরু করেন।
১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ১ আগস্ট লোকমান্য তিলক-এর জীবনাবসান ঘটে। মহারাষ্ট্র তথা ভারতের চরমপন্থী জাতীয়তাবাদের বিকাশে বাল গঙ্গাধর তিলক-এর অবদান অবিস্মরণীয়। বিখ্যাত ব্রিটিশ সাংবাদিক ভ্যালেন্টাইন চিরল (Valentine Chirol) তিলক-কে ভারতীয় বিক্ষোভের জনক (Father of Indian Unrest) এবং গান্ধিজি তাঁকে আধুনিক ভারতের স্রষ্টা (Maker of Modern India) এইরূপ অভিধায় ভূষিত করেছেন।
চরমপন্থী রাজনীতিতে বিপিনচন্দ্র পালের ভূমিকা
বিপিনচন্দ্র পাল (১৮৫৮-১৯৩২ খ্রি.) ছিলেন ভারতের চরমপন্থী মতাদর্শের একজন অন্যতম প্রবক্তা। বিপ্লবী অরবিন্দ ঘোষ তাঁকে জাতীয়তাবাদের একজন শ্রেষ্ঠ প্রবক্তা এবং সমকালীন যুগের দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি বলে অভিহিত করেছেন। অনেকে তাঁকে বাংলার বার্ক (Burke of Bengal) নামে অভিহিত করে থাকেন।F
প্রথম জীবন: শ্রীহট্ট জেলার পৈল গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত কায়স্থ পরিবারে ১৮৫৮ বিপিনচন্দ্র পাল খ্রিস্টাব্দে বিপিনচন্দ্র পাল জন্মগ্রহণ করেন। শ্রীহট্টে থাকাকালীন ছাত্রজীবনেই তাঁর মনে রোপিত হয়েছিল স্বদেশপ্রেমের বীজ। উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতায় এসে বিপিনচন্দ্র সমকালীন জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। সমসাময়িক তরুণগোষ্ঠীর অনেকের মতো বিপিনচন্দ্র পাল-ও ব্রাহ্মসমাজের প্রতি আকৃষ্ট হন ও সেখানে যোগ দেন।
বিপিনচন্দ্র পাল-এর রাজনৈতিক জীবন
রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ও মতাদর্শ: রাজনৈতিক জীবনে বিপিনচন্দ্র পাল-এর প্রথম দীক্ষাগুরু ছিলেন সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় আয়োজিত জাতীয় কংগ্রেসের দ্বিতীয় বার্ষিক অধিবেশনে তিনি শ্রীহট্টের প্রতিনিধি হিসেবে কংগ্রেসে যোগদান করেন। এরপর মাদ্রাজে কংগ্রেসের তৃতীয় বার্ষিক অধিবেশনেও বিপিনচন্দ্র পাল উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশের প্রথম পর্বে তিনি নরমপন্থী আদর্শে আস্থাশীল ছিলেন। কিন্তু ইংরেজ সরকার কর্তৃক বঙ্গবিভাগের পরিকল্পনা এবং নরমপন্থী রাজনীতির ব্যর্থতা তাঁর মোহভঙ্গ ঘটায়। আবেদন-নিবেদন নীতির অন্তঃসারশূন্যতা তাঁর কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এমতাবস্থায় বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় তিনি চরমপন্থী রাজনৈতিক আন্দোলনে শামিল হন। উল্লেখ্য যে, ভারত ইতিহাসে বীরনায়কদের দৃষ্টান্ত প্রচার করে জাতীয়তাবাদ জাগরণের পথকে তিনি সমর্থন করেন। পাশাপাশি, আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে জাতীয়তার সমন্বয় ঘটাতে চেষ্টা করেন বিপিনচন্দ্র পাল। তিনি বলতেন, ‘জাতীয়তাবাদ হল ভগবানের মধ্যে মানবতা এবং মানবতার মধ্যে সৃষ্টিকর্তার বহিঃপ্রকাশ।’
স্বরাজ ভাবনা: ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ বিপিনচন্দ্র পাল জাতীয় কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানান। তিলক-এর স্বরাজ ভাবনা এবং বিপিনচন্দ্র-এর স্বরাজ ভাবনা-র মধ্যে প্রভেদ ছিল। তিলক ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মধ্যে থেকেই স্বরাজ বা স্বায়ত্তশাসনের কথা ভাবতেন। কিন্তু বিপিনচন্দ্র মনে করতেন, একমাত্র ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণমুক্ত ভারতেই স্বরাজ অর্জন সম্ভব।
‘নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ’ আন্দোলনের উদ্ভাবন: বিপিনচন্দ্র পাল প্রথম নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ বা Passive Resistance-এর মন্ত্রে ভারতীয়দের দীক্ষিত করেছিলেন বলে জানা যায়। অরবিন্দ ঘোষ বলেন যে, বিপিনচন্দ্র পালই ছিলেন নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির আদি প্রবক্তা।
পত্রিকার সম্পাদনা: বিপিনচন্দ্র পাল তাঁর সম্পাদিত নিউ ইন্ডিয়া (New India) এবং বন্দেমাতরম্ পত্রিকার মাধ্যমে নরমপন্থার অসারতা তুলে ধরার পাশাপাশি দেশবাসীর মধ্যে জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রচার করেন।
বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা: বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী স্বদেশি আন্দোলনের উত্তেজনাময় দিনগুলিতে বিপিনচন্দ্র হয়ে ওঠেন একজন অবিসংবাদিত দেশনায়ক। এই পর্বেই ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে তিনি ভ্রমণ করেন। বস্তুত, স্বদেশি আন্দোলনের যুগে ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে তাঁর জীবনের স্বর্ণযুগ বলে অভিহিত করা হয়। ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে নিউ ইন্ডিয়া-র পৃষ্ঠায় তিনি লেখেন যে, বয়কট আন্দোলন ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আন্দোলন; যার লক্ষ্য ভারতে নাগরিক স্বাধীনতার পত্তন। বিদেশি শাসকদের সঙ্গে সর্বপ্রকার সহযোগিতা বয়কটের কথা বলেন তিনি। আত্মশক্তি বলে বলীয়ান হয়ে দেশবাসীকে স্বাধীনতা অর্জনের আহ্বান জানান বিপিনচন্দ্র।
কারাবরণ ও মৃত্যু: ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে বন্দেমাতরম্ পত্রিকায় রাজদ্রোহিতামূলক লেখা প্রকাশের জন্য অরবিন্দ ঘোষ-কে অভিযুক্ত করা হয়। বিপিনচন্দ্র পাল অরবিন্দ ঘোষ-এর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকার করলে ৬ মাসের জন্য কারারুদ্ধ হন। ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে পুনরায় তিনি ১ মাসের জন্য বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে এই বিশিষ্ট জাতীয়তাবাদী নেতার জীবনাবসান ঘটে।
এই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে বিনয়কুমার সরকার বলেছেন যে, বিপিনচন্দ্র পালই ছিলেন ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের বঙ্গ বিপ্লবের জন্মদাতা ও নেতা। মাদ্রাজের জাতীয়তাবাদী নেতা চিদাম্বরম পিল্লাই তাঁকে স্বাধীনতার সিংহ বলে অভিহিত করেন। পাশাপাশি অনেকে বিপিনচন্দ্র পাল-কে ভারতের বিপ্লবী চেতনার পথিকৃৎ (Father of Revolutionary Thoughts in India) বলেও মনে করেন।
চরমপন্থী রাজনীতিতে অরবিন্দ ঘোষের ভূমিকা
অরবিন্দ ঘোষ (১৮৭২-১৯৫০ খ্রি.) ছিলেন বিংশ শতকের বাংলার চরমপন্থী রাজনীতি ও বিপ্লববাদের পথিকৃৎ তথা অন্যতম শ্রেষ্ঠ দার্শনিক ও রাজনৈতিক নেতা।
প্রথম জীবন: অরবিন্দ ঘোষ ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দের ১৫ আগস্ট কলকাতার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন ড. কৃষ্ণধন ঘোষ এবং মাতা স্বর্ণলতা দেবী ছিলেন বিখ্যাত রাজনারায়ণ বসু-র জ্যেষ্ঠা কন্যা। অরবিন্দ ঘোষ সম্ভবত ১৮৯১-৯২ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করে ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে দেশে ফিরে বরোদা কলেজের অধ্যাপনার কাজে নিযুক্ত হন।
অরবিন্দ ঘোষ-এর রাজনৈতিক জীবন
রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ও মতাদর্শ: অরবিন্দ ঘোষ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রারম্ভেই ১৮৯৩-৯৪ খ্রিস্টাব্দে লেখনীর মাধ্যমে নরমপন্থী রাজনীতির দুর্বলতাগুলি তুলে ধরেন। ইন্দুপ্রকাশ পত্রিকায় তিনি New Lamps for Old শীর্ষক একগুচ্ছ প্রবন্ধে নরমপন্থী রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, ‘বর্তমানে কংগ্রেসের (নরমপন্থী) লক্ষ্য বিপথচালিত, উদ্যোগ আন্তরিকতাবর্জিত, কর্মপদ্ধতি ত্রুটিপূর্ণ।’ আবেদন-নিবেদন নীতির পরিবর্তে আত্মনির্ভরতা, সরকারের সঙ্গে অসহযোগ এবং অদূর ভবিষ্যতে সশস্ত্র বিরোধের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া-এই ছিল অরবিন্দের রাজনৈতিক কর্মপন্থা। বন্দেমাতরম্, কর্মযোগিন, ধর্ম পত্রিকায় তিনি তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রচার করেন।
স্বদেশি আন্দোলন সম্পর্কে মনোভাব: বাংলায় স্বদেশি আন্দোলন শুরু হলে অরবিন্দ ঘোষ বরোদা কলেজের সাড়ে সাতশো টাকা বেতনের চাকুরি ছেড়ে কলকাতায় জাতীয় কলেজে বিনা বেতনে অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেন (১৯০৬ খ্রি.)। পরে এর জন্য মাত্র ৭৫ টাকা বেতন গ্রহণ করেন। তাঁর পরিচালনা ও সম্পাদনায় বন্দেমাতরম্ পত্রিকাটি বিপুল জনপ্রিয়তা পায় ও এটি জাতীয়তাবাদী দলের মুখপত্রে পরিণত হয়। এই পত্রিকার মাধ্যমে অরবিন্দ স্বরাজ ও স্বদেশি-র আদর্শ প্রচার করেন। বস্তুত, স্বরাজ অর্জনের জন্য তিনি প্রথমে নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
বিপ্লববাদ ও অরবিন্দ: ক্রমে অরবিন্দ বিপ্লববাদের প্রতি আকৃষ্ট হন। ইতিমধ্যেই তাঁর অনুপ্রেরণায় কনিষ্ঠ ভ্রাতা বারীন্দ্র কুমার (বারীন ঘোষ) যুগান্তর দল তৈরি করে বাংলায় বিপ্লবী কাজকর্ম শুরু করেছিলেন। বিপ্লববাদকে সমর্থন করে বন্দেমাতরম্ পত্রিকায় অরবিন্দ লেখেন- “স্বাধীনতা মানুষের সহজাত অধিকার। সমাজ, ধর্ম বা রাজনীতি -এই অধিকারের উপর অন্যায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলে, তার বিরুদ্ধে বিপ্লব বা সংগ্রাম দ্বারা অধিকার অর্জন করাই অনিবার্য পরিণতি হওয়া স্বাভাবিক।” বাংলার যুবকদের এসময় তিনি অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষিত করেন। অরবিন্দ ঘোষ কেবল গণ আন্দোলনের প্রধান পুরুষ নন, তিনি ছিলেন বঙ্গীয় বিপ্লববাদের মন্ত্রগুরু ও প্রাণপুরুষ। তাঁর প্রেরণা ও পরামর্শে মানিকতলার বাগানবাড়িতে যুগান্তর বিপ্লবী গোষ্ঠীর প্রধান কর্মকেন্দ্র স্থাপিত হয় এবং সরকারবিরোধী বিপ্লবী কর্মকাণ্ড চলতে থাকে।
১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে পুলিশ মুরারিপুকুর বাগানবাড়ি অবরোধ করে বোমা-সহ বিপ্লবীদের গ্রেফতার করে। অরবিন্দ-সহ বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে রুজু হয় আলিপুর ষড়যন্ত্র মামলা। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ওকালতি করে তাঁর পক্ষে সওয়াল করেন। অবশেষে অরবিন্দ মুক্তি পান (১৯০৯ খ্রিস্টাব্দের ৫.মে)।
আধ্যাত্মিক জীবন ও মৃত্যু: মুক্তিলাভের পর অরবিন্দ রাজনীতি বর্জন করে পন্ডিচেরিতে আধ্যাত্মিক সাধনায় রত থাকেন (১৯১০ খ্রি.)। তিনি আর্য (Arya) নামক একটি মাসিক পত্রিকায় আধ্যাত্মিক বিষয়ে নিবন্ধ প্রকাশ করেন। বিপ্লবী মহাপুরুষ অরবিন্দ ঘোষ ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে পরলোকগমন করেন। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ অরবিন্দ ঘোষ সম্পর্কে বলেছেন, “He (Aurobindo) is, Poet of Patriotism, Prophet of Nationalism and Lover of Humanity.”
চরমপন্থী রাজনীতিতে লালা লাজপত রায়ের ভূমিকা
পাঞ্জাবের বিশিষ্ট চরমপন্থী নেতা, আইনজ্ঞ ও আর্য সমাজের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন লালা লাজপত রায় (১৮৬৫-১৯২৮ খ্রি.)। ১৯০৫ থেকে ১৯০৭খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি চরমপন্থী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। পাঞ্জাব অঞ্চলে লালা লাজপত রায়-এর নেতৃত্বে চরমপন্থী আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে।
প্রথম জীবন: ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে পাঞ্জাবের ধুদিকে (Dhudike) গ্রামে জন্ম নেন লালা লাজপত রায়। আইন বিষয়ে পড়াশোনা করে ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে সাফল্যের সঙ্গে তিনি লালা লাজপত রায় আইনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। প্রথম জীবনেই গুরু দত্ত ও লালা হংসরাজের সংস্পর্শে এসে যোগ দেন আর্য সমাজে। স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী-র আদর্শ দ্বারা তিনি বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত হন। আইন পাস করার পর তিনি ওকালতি শুরু করেন। পরবর্তীতে দেশসেবার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে আত্মনিয়োগ করেন ভারতের মুক্তিসংগ্রামে।
লালা লাজপত রায়-এর রাজনৈতিক জীবন
রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ও মতাদর্শ: লালা লাজপত রায় ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের এলাহাবাদ অধিবেশনে প্রথম যোগ দেন। কিছুকালের মধ্যেই কংগ্রেসের নরমপন্থী নীতির অসারতা তিনি উপলব্ধি করেন। এমনকি কায়স্থ সমাচার (Kayastha Samachar) পত্রিকায় (১৯০১ খ্রি.) লালা লাজপত রায় নরমপন্থীদের কার্যকলাপের তীব্র সমালোচনাও করেন। তিনি মনে করতেন যে, কংগ্রেস আন্দোলন জনগণের আন্দোলন নয়, এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের কোনও যোগ নেই। কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনগুলিকে উচ্চশিক্ষিত ও বিত্তবান নেতাদের গরিমা প্রচারের অনুষ্ঠান বলে ব্যঙ্গও করেন। এই জন্য তিনি ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত কংগ্রেসের কোনও অধিবেশনে যোগদান করেননি।
ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্য ও আদর্শে লালা লাজপত রায় বিশ্বাসী ছিলেন। জাতীয় মর্যাদা ও স্বাধীনতাকে তিনি জীবনের চরম লক্ষ্য বলে ঘোষণা করেন।
গণসংযোগ স্থাপন: কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে লালা লাজপত রায় ইংল্যান্ডে গিয়ে বঙ্গ-বিভাজন বাতিল করার আবেদন জানান। কিন্তু সরকারের উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ হয়ে নিষ্ক্রিয় আন্দোলনের পথ বেছে নেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে কংগ্রেসের বেনারস অধিবেশনে তিনি বলেন যে, নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধের মাধ্যমে স্বরাজ অর্জন করা একটি আইনসম্মত পদ্ধতি। বয়কট, স্বদেশি ও গণ আন্দোলন-এর সমর্থনে লালা লাজপত রায় গণসংযোগ গড়ে তোলেন। তাঁর উদ্যোগে পাঞ্জাবে স্বদেশি ব্যাংক, বিমা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়। অজিত সিং ও লালা লাজপত রায়-এর প্রচেষ্টায় এসময় স্বদেশির আদর্শ পাঞ্জাব এবং উত্তর ভারতের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।
কৃষক আন্দোলনে অংশগ্রহণ: লালা লাজপত রায় ব্রিটিশ সরকারের শোষণমূলক ভূমিরাজস্ব আইন ও অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের বিরুদ্ধে কৃষক আন্দোলন সংগঠিত করেন। তিনি ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে চেনাব অঞ্চলে অতিরিক্ত রাজস্বের বিরুদ্ধে এক কৃষক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। বিদ্রোহী কৃষকরা রাওয়ালপিন্ডিতে ব্রিটিশদের বাংলো, রেললাইন, ডাকঘর ধ্বংস করেন। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তাঁকে বার্মার মান্দালয়ে নির্বাসিত করা হয় (১৯০৭ খ্রিস্টাব্দের ৯ মে)। এরপর কারামুক্ত হয়ে তিনি আবার সক্রিয় রাজনীতি শুরু করেন।
সাইমন কমিশন-বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও মৃত্যু: ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে স্যার জন সাইমন (John Simon)-এর নেতৃত্বে এক কমিশন ভারতে এলে লালা লাজপত রায় সাইমন কমিশন-বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। সাইমন কমিশন বয়কট করার জন্য একটি মিছিল পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়ার সময় পুলিশের লাঠির আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং কিছুদিনের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেন (১৭ নভেম্বর, ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দ)।
লালা লাজপত রায়-এর রাজনৈতিক সততা, আত্মত্যাগ ও দেশসেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার নিদর্শন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে। তাঁর বলিষ্ঠ মতাদর্শ ও সংগ্রামী চরিত্রের জন্য লালা লাজপত রায়-কে শের-ই-পাঞ্জাব বা পাঞ্জাব কেশরী অভিধায় ভূষিত করা হয়।
আরো পড়ুন : উচ্চমাধ্যমিক চতুর্থ সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর