লুথারবাদের সীমাবদ্ধতা কী ছিল

লুথারবাদের সীমাবদ্ধতা কী ছিল

অথবা, লুথারের চিন্তাভাবনায় কী কী স্ববিরোধিতা লক্ষ করা যায়

লুথারবাদের সীমাবদ্ধতা কী ছিল
লুথারবাদের সীমাবদ্ধতা কী ছিল

লুথারবাদের সীমাবদ্ধতা

মার্টিন লুথার বিপথগামী চার্চ ও নৈতিকতাবর্জিত যাজকতন্ত্রের পীড়ন থেকে যথার্থ ধর্মপ্রাণ খ্রিস্টানদের মুক্ত করতে সংস্কার আন্দোলনে নেমেছিলেন। তবে তাঁর ভাবনাচিন্তা ও কর্মপদ্ধতির মধ্যেও কিছু স্ববিরোধিতা তথা সীমাবদ্ধতার প্রতি পণ্ডিতেরা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। যথা-

(1) মানবতাবাদের সঙ্গে সংঘাত: মানবতাবাদে মানুষের সততা এবং অন্তর্নিহিত শক্তির উপর আস্থা রাখা হয়েছে। ইরাসমাসের মতে, মানুষ ইচ্ছা ও যুক্তির জোরে ঈশ্বরের সঠিক ইচ্ছাকে কাজে লাগাতে পারে। কিন্তু লুথারের মতে, মানুষের শক্তি বলে কিছু নেই। আর মানুষের যুক্তির কেন্দ্রে আছে তার লালসা।

(2) পূর্ব-নির্ধারণবাদে বিশ্বাস: নবজাগরণ ও মানবতাবাদের মর্মকথা হল যে, মানুষ নিজের সাধনার দ্বারা আত্মপ্রতিষ্ঠা লাভে সক্ষম। দৈব অনুগ্রহ নয়, পুরুষকারই মানুষের জীবনের ধারা গড়ে দেয়। কিন্তু লুথার পূর্ব-নির্ধারণ তত্ত্ব (Doctrine of Pre Destination)-তে বিশ্বাসী ছিলেন। এই তত্ত্ব অনুসারে, মানুষের জীবনের ভালোমন্দ আগে থেকেই স্থির হয়ে (পূর্ব-নির্ধারিত) আছে। কে মুক্তি পাবে আর কে পাবে না, তা ভগবানের উপর নির্ভরশীল। লুথারের দৈব নির্ভরতার তত্ত্ব মানবতাবাদী ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত।

(3)  সিদ্ধান্তে স্ববিরোধিতা: লুথার রাজা ও প্রজার সম্পর্কের ক্ষেত্রে দ্বিমুখী অবস্থান নেন। ১৫২০ খ্রিস্টাব্দে রোমান সম্রাট ও ক্যাথলিক যাজকগণ পোপের সহযোগী হিসেবে ধর্মসংস্কার আন্দোলন দমন করতে উদ্যত হলে লুথার প্রজার প্রতিরোধ তত্ত্ব (Doctrine of Resistance)-কে সমর্থন করেন। তিনি জার্মানির রাজন্যবর্গকে সম্রাটের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান জানান। কিন্তু ১৫২৫ খ্রিস্টাব্দে লুথার ঠিক উল্টো পথ নেন। এই সময় কৃষকেরা ভূস্বামী বা সামন্তদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামলে সামন্তরাজাদের সমর্থন অটুট রাখার প্রয়োজনে তিনি তখন প্রজাদের অ-প্রতিরোধ (Non-resistance) তত্ত্ব অনুসরণের পরামর্শ দেন। এই মতে বলা হয় যে, রাজশক্তি অত্যাচারী হলেও, প্রজাদের প্রতিরোধ গড়ে তোলা অনুচিত।

মূল্যায়ন

তবে কিছু সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও একথা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই যে, ষোড়শ শতকে জার্মানি তথা ইউরোপের আধ্যাত্মিক সংকট দূরীকরণে লুথার ছিলেন অনন্যসাধারণ। অবশ্য শুধু ধর্মীয় দিকই নয়, পোপতন্ত্রের সমগ্র ধারণাটির বিরোধিতা করার মাধ্যমে তিনি সামাজিক, রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় -এই সকলক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করেছেন।

আরও পড়ুন – রাষ্ট্রের প্রকৃতি প্রশ্ন উত্তর

আরও পড়ুন প্রয়োজনে
ভারতের উপর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব আলোচনা করো | Economic impact of World War I (1914) on India (Exclusive Answer) Click here
বাংলায় সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের বিবরণ দাও (Exclusive Answer) Click here
চরমপন্থী রাজনীতিতে বাল গঙ্গাধর তিলক, বিপিনচন্দ্র পাল, অরবিন্দ ঘোষ ও লালা লাজপত রায়ের ভূমিকা | ক্লাস 12 (Exclusive Answer) Click here
রাষ্ট্রের প্রকৃতি প্রশ্ন ও উত্তর | ক্লাস 11 দ্বিতীয় সেমিস্টার Click here

Leave a Comment