‘লোলার্ড’ কারা? ‘হুসাইট’ কাদের বলে

‘লোলার্ড’ কারা? ‘হুসাইট’ কাদের বলে

'লোলার্ড' কারা? 'হুসাইট' কাদের বলে
‘লোলার্ড’ কারা? ‘হুসাইট’ কাদের বলে

লোলার্ড

মার্টিন লুথারের পূর্বে যেসকল ধর্মসংস্কারক চার্চ ও যাজক সম্প্রদায়ের অনাচার ও পার্থিব বিষয়াসক্তির বিরুদ্ধে মুখর হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন জন ওয়াইক্লিফ। চতুর্দশ শতকের ইংল্যান্ডে তাঁর গড়ে তোলা ধর্মীয় আন্দোলনের অনুসারীদের লোলার্ড (Lollards) বলা হত।

(1) লোলার্ডদের আদর্শ: ওয়াইক্লিফের শিক্ষা ও আদর্শের দ্বারা অনুপ্রাণিত লোলার্ডদের মতাদর্শগুলি হল নিম্নরূপ-

  • মাতৃভাষায় বাইবেল পাঠ: লোলার্ডরা বিশ্বাস করতেন যে, খ্রিস্টান জগতের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব বাইবেলের মধ্যেই নিহিত আছে। তাই সাধারণ মানুষের মাতৃভাষায় বাইবেল পাঠের অধিকার রয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, লোলার্ডরা বাইবেলের ইংরেজি অনুবাদের দ্বারা যথেষ্ট প্রভাবিত হয়েছিলেন।
  • চার্চের সমালোচনা: লোলার্ডরা চার্চের আড়ম্বরপূর্ণ উপাসনা, পোপের সর্বোচ্চ ক্ষমতার সমালোচনা করেন। তাঁরা যাজকদের সহজ-সরল জীবনধারায় বিশ্বাসী ছিলেন।

(2) আন্দোলনের প্রসার: অল্প সময়ের মধ্যেই লোলার্ডদের আন্দোলন ইংল্যান্ডের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। সমাজের নিম্নস্তরের মানুষদের কাছে তাঁরা যথেষ্ট জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন।

(3) প্রতিক্রিয়া: ক্যাথলিক চার্চ অতঃপর লোলার্ডদের ধর্মদ্রোহী রূপে বিবেচনা করে দমন-পীড়নে সচেষ্ট হয়ে ওঠে। তবে নিপীড়ন সত্ত্বেও তাদের প্রতিবাদী কন্ঠ পুরোপুরি স্তব্ধ করা যায়নি। দুশো বছর পরে ইউরোপে ধর্মসংস্কার আন্দোলন শুরু হলে লোলার্ডদের সঙ্গে ইংল্যান্ডের লিটল জার্মানি গোষ্ঠীর যোগাযোগ স্থাপিত হয়।

হুসাইট

ধর্মসংস্কারের আদিপর্বের একজন প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব ছিলেন জন হাস। তাঁর শিক্ষা ও মতবাদ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে পঞ্চদশ শতকে – বোহেমিয়াতে যে প্রতিবাদী আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল, তা হুসাইট আন্দোলন নামে পরিচিত। এই ধর্মীয় ও সামাজিক আন্দোলনের অনুসারীরাই হুসাইট (Hussites) নামে পরিচিত।

(1) মতাদর্শ: হুসাইটগণ ওয়াইক্লিফপন্থীদের মতোই বাইবেলের প্রাধান্যে বিশ্বাসী ছিলেন। তাঁদের মতে, সাধারণ মানুষেরও গির্জায় ধর্মযাজকদের মতো Eucharist অনুষ্ঠানে যোগদানের অধিকার থাকা উচিত। হুসাইটরা চার্চের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের জন্য সোচ্চার হয়ে উঠেছিলেন।

(2) ইউট্রাকুইটস ও টাবোরাইটস: হুসাইটরা মূল দুটি গোষ্ঠীতে বিভাজিত ছিলেন- ইউট্রাকুইটস (Utraquist) এবং টাবোরাইটস (Taborites)। এদের মধ্যে প্রথম গোষ্ঠীটি চার্চের সংস্কারের প্রতি নরমপন্থী মনোভাব প্রকাশ করলেও দ্বিতীয় দলটি ছিল চরমপন্থী এবং সামরিকভাবে সক্রিয়।

(3) হুসাইট যুদ্ধ: ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে ধর্মদ্রোহিতার অভিযোগে জন হাসকে অগ্নিদগ্ধ করে হত্যা করা হলে বোহেমিয়ায় বিদ্রোহের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় হুসাইট যুদ্ধ (১৪১৯-১৪৩৪ খ্রিস্টাব্দ)। অবশেষে বাসেলের কাউন্সিলের (Council of Basel) মাধ্যমে হুসাইটদের কিছু দাবিদাওয়া মেনে নেওয়া হয়। বোহেমিয়াতে এক সীমিত ধর্মীয় সহাবস্থানের পরিবেশ গড়ে ওঠে।

আরও পড়ুন – রাষ্ট্রের প্রকৃতি প্রশ্ন উত্তর

আরও পড়ুন প্রয়োজনে
ভারতের উপর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব আলোচনা করো | Economic impact of World War I (1914) on India (Exclusive Answer) Click here
বাংলায় সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের বিবরণ দাও (Exclusive Answer) Click here
চরমপন্থী রাজনীতিতে বাল গঙ্গাধর তিলক, বিপিনচন্দ্র পাল, অরবিন্দ ঘোষ ও লালা লাজপত রায়ের ভূমিকা | ক্লাস 12 (Exclusive Answer) Click here
রাষ্ট্রের প্রকৃতি প্রশ্ন ও উত্তর | ক্লাস 11 দ্বিতীয় সেমিস্টার Click here

Leave a Comment